Advertisement ggg
Homebiographyজ্যাক মা : এক হার না মানার আত্মবিশ্বাসের গল্প!

জ্যাক মা : এক হার না মানার আত্মবিশ্বাসের গল্প!

বিশ্বের সমস্ত ধনী ব্যক্তিদের যদি একটি আলাদা তালিকা করা হয় তাহলে সেটির মধ্যে সবচেয়ে প্রথম যাঁর নামটি আসবে সেটি হল জ্যাক মা

বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান হলেন এই জ্যাক মা।

আবার এই মানুষটির হলে চীনের সবচেয়ে শীর্ষে থাকা ধনী ব্যক্তি।

ইনি প্রায় পঁচিশ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক।

পিছন ফিরে দেখলে জানা যাবে এই মানুষটার জীবন কিন্তু ছিল একদমই আর পাঁচটা মানুষের মত।

চীনের একটি অতি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

এমনকি জানা যায় ছাত্র জীবনে কখনোই তিনি খুব একটা ভালো ছিলেন না।

জীবনে বারংবার তিনি ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছেন এই মানুষটির জীবন থেকে সত্যিই অনেক কিছু শেখার আছে।

তাই আজ আপনাদের এই জ্যাক মা’র গুগল থেকে পাওয়া পাঁচটি শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করব।

প্রত্যাখ্যানই হল সাফল্যের আরেক নাম :

Source : Facebook

যখনই আমরা কোন কাজ শুরু করতে যাই তখনই আমাদের মাথায় দুটো কথা বারবার আসে!

১. যদি কাজটি সুন্দরভাবে সাফল্যের সাথে শেষ করতে পারি তাহলে কী হবে?

২. যদি কোন কারণের জন্য কাজটি সম্পূর্ণ করতে না পারি তাহলে কী হবে?

আশ্চর্যের বিষয় হল প্রথমটির থেকে দ্বিতীয়টি বিষয়টি আমাদের মাথায় বেশিরভাগ সময় আসে।

যদিও এতে আমাদের বিন্দুমাত্র কোন দোষ নেই,

কারণ আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি অসফল হওয়া বা প্রত্যাখ্যান হওয়া যেন ব্যর্থতারই আরেক রূপ।

জ্যাক মা নিজের জীবনে এই ব্যর্থতার এই নতুন রূপের সাথে বারবার পরিচিতি লাভ করেছেন।

এক সময় তিনি হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রায় ১০ বার আবেদন করেছিলেন।

এবং প্রত্যেকবারই তিনি ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন।

চীনে যখন প্রথমবার কে.এফ.সি. এসেছিল তখন সেখানে, প্রায় ২৪ জন চাকরির জন্য আবেদন জমা করে।

এরই মধ্যে থেকে ২৩ জনকে নিয়োগ করে নিয়ে বাদ দেওয়া হয় একজনকে।

আর সেই একজন আর কেউ নয় তিনি হলেন জ্যাক মা।

নিজের ছোটবেলা থেকেই প্রত্যাখ্যান শব্দটাকে সমার্থক শব্দ হিসেবে নিজের সঙ্গে রেখেছিল বলেই,

আজ তিনি জীবনে এতটা সফলতা অর্জন করেছেন।

প্রতিবার প্রত্যাখ্যান হতে হতে তাঁর জীবন থেকে প্রত্যাখ্যান হওয়ার ভয়টাই চলে গিয়েছিল।

‘না’ বলা মানুষগুলোকে সরাসরি ‘না’ বলা :

Source : Facebook

প্রথমবার যখন আলিবাবার আইডিয়াটা তাঁর মাথায় আসলো তিনি সমস্ত বন্ধুদের সাথে আলোচনা করবেন।

তিনি তাঁর ২৪ জন বন্ধুকে নিজের বাড়িতে ডাকলেন।

এরপরে তিনি নিজের আলিবাবার আইডিয়াটা সবার সাথে শেয়ার করেন।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হল ২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনই তাঁর এই আইডিয়াটাকে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল।

কেউই জ্যাক মার পাশে থাকতে রাজি হননি। মাত্র একজন বন্ধুই তাঁর পাশে থাকার জন্য প্রস্তুত হন।

তবে তাঁর সেই বন্ধু একটি শর্ত দেয় যদি দেখা যায় এই ব্যবসা থেকে সেই পরিবারের লাভ হচ্ছে না তাহলে তাঁরা এই ব্যবসা থেকে ফিরে আসবেন।

আর সামনের দিকে এগোবে না তাঁরা।

আমরা আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত এমন কিছু মানুষের সাথে দেখা করে থাকি যারা প্রতিটি ক্ষেত্রেই ‘না’ শব্দটি প্রয়োগ করে থাকে।

এমন কি কোন সামাজিক কাজের জন্য তাঁদের মুখ থেকে প্রথম শব্দ যেটি পেরেছি সেটি হল ‘না’।

তাঁদের এই ‘না’এর পেছনে অজস্র অজুহাত থাকে।

কিন্তু তাই বলে কি এদের একটি শব্দের জন্য আমরা থেমে থাকবো?

একেবারেই নয় বরং ক্রমশ এগিয়ে যেতে হবে তাঁদেরকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে।

নিজের ইচ্ছাশক্তিকে জিইয়ে রাখুন :

Source : Facebook

এনার জীবনে একটি অন্যতম প্রবল শক্তিশালী দিক হল তাঁর ইচ্ছাশক্তি।

আলিবাবার কথা যদি বাদ দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তাঁর জীবনের অধিকাংশই বাদ চলে যাবে।

এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু করার আগে তিনি আরও ২টি প্রতিষ্ঠান চালু করেছিলেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দু’টির কোনটাই সেই সময় সাফল্যের মুখ দেখেনি।

তাই বলে কিন্তু তিনি বসে থাকেননি, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দিয়ে তিনি নতুন উদ্যোগ এবং নতুন চিন্তা ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন।

প্রথমবার যখন তিনি ইন্টারনেট চালু করেন তখন তিনি খেয়াল করেন China, Beer  সহ বেশ  বেশ কিছু শব্দ ইন্টারনেটে অবস্থিত রয়েছে।

কিন্ত চীনের এগুলি সম্পর্কিত কোন ওয়েবসাইট তৈরি হয়নি।

তাই তখন তিনি এই ধরনের সমস্ত শব্দগুলিকে নিয়ে চীনের একটি ওয়েবসাইট চালু করেন।

যদিও পরবর্তীকালে তিনি এটি চীন সরকারের কাছে বিক্রি করে দেন।

একসময় এসে তিনি ভালভাবেই বুঝতে পারেন পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেট নির্ভরশীল হতে চলেছে মানুষ।

তাই তিনি এগুলি নিয়ে কাজ করা শুরু করেন, কিন্তু তিনি যতটা ভেবেছিলেন তখনকার বাজারে ঠিক ততটা কাজগুলি হয়নি।

কিন্তু জ্যাক মা’র কাছে ছিল একটি আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ,

যাকে পরবর্তীতে নাম দেওয়া হয় ইচ্ছাশক্তি।

আশ্চর্য ইচ্ছাশক্তি ফলাফল আজকের দিনে দাঁড়িয়ে দাম হয়েছে ‘আলিবাবা’।

লক্ষ্য যখন আপনার সুনির্দিষ্ট, সাফল্য তখন একেবারেই সুনিশ্চিত :

Source : Facebook

“প্রত্যেকটি কর্মস্থানেই জানে, যে তারা কী করছে; আবার অনেক কর্মস্থান জানে তারা কীভাবে করছে; কিন্তু মুষ্টিমেয় খুব কম কর্মস্থানেই জানে তারা কেন করছে!”

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে কাজটি আমরা করছি তার জন্য বিন্দুমাত্র কোন চেষ্টার ত্রুটি রাখিনি।

অথচ দিন শেষে দেখা যায় সেই কাজে আমরা যথারীতি ব্যর্থ হচ্ছি।

এটি হওয়ার মূল কারণ হল কোন কাজ করতে করতে সেটি থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়া অথবা দূরে সরে যাওয়া।

প্রতিটি লক্ষ্যের ক্ষেত্রে কিন্তু সুনির্দিষ্ট কিছু পথ থাকে।

আর একজন মানুষের উচিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সেই পথগুলি পাড়ি দেওয়া।

কিন্তু প্রায় ক্ষেত্রেই এটি দেখা গিয়েছে যে পথে পাড়ি দিতে গিয়ে ভুল পথে চলে যাওয়া।

অর্থাৎ যে কাজের জন্য আমরা মন স্থির করছি সেটি থেকে ক্রমশ দূরে চলে যাওয়া।

কিন্তু জ্যাক মা’র জীবন থেকে এটি স্পষ্ট ভাবে বলে দেওয়া যায় তিনি কখনোই নিজের লক্ষ্যের ব্যাপারে দ্বিধা অথবা দ্বন্দ্বে ছিলেন না।

তিনি খুব ভালভাবেই জানতেন তিনি কী করতে চান, কেন করতে চান এবং কীভাবে করতে চান।

জ্যাক মা’র বলা কথা অনুযায়ী :

Source : Facebook

“প্রতিটি সফল প্রাপ্ত মানুষের উচিত ৫০ বছর বয়স হয়ে যাওয়ার পর অর্থের সমস্ত চিন্তা ছেড়ে দিয়ে মানব সেবা এবং নতুন প্রজন্মদের সফল করার যে মনোনিবেশ করা উচিত।”

এরই মধ্যে তিনি ঘোষনা করে দিয়েছেন যে, এই বছরের মধ্যেই তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর নিতে চলেছেন।

অবসরের পরে তিনি শিক্ষার প্রসার এবং তরুণদের জন্য নতুন করে কাজ করা শুরু করবেন।

উপরের হওয়া প্রত্যেকটি জিনিস আর কিছুই নয় শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কারণ।

যখন নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী :

Source : Facebook

কাঁকড়ার মানসিকতা অথবা ক্র‍্যাব মেন্টালিটি বলে একটি কথা কিন্তু প্রচলিত রয়েছে।

পুকুর কিংবা নদী থেকে যখন কাঁকড়া তুলে এনে কোন পাত্রে অথবা জারে রাখা হয়,

তখন সেই কাঁকড়াগুলি বেরিয়ে আসার ক্রমশ চেষ্টা চালিয়ে যায়।

কিন্তু সমস্যার শুরু হয় এখান থেকেই!

একটি কাঁকড়া যখন দেখে তাদেরই এক কাঁকড়া যার থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে,

এখন সেই কাঁকড়াটি শুঁড় দিয়ে তাকে টেনে ধরে।

যার ফলে সেই কাঁকড়ার আর যার থেকে বেরিয়ে আসা হয়না।

আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অন্য কাঁকড়ারাও চলে আসে এবং তাকে টেনে নামায়।

এই ভাবেই যার থেকে কোন কাঁকড়াই বেরিয়ে আসতে পারেনা।

আমরা প্রত্যেকে প্রতিনিয়ত ও পরিবেশ এবং আশেপাশের মানুষের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছি ক্রমশ।

প্রত্যেকটি মানুষই স্বভাবগতভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পছন্দ করে।

তবে কিছু কিছু সময় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে ওঠে বিকট এবং কুৎসিত।

তখন আমাদের অবস্থা ঠিক সেই কাঁকড়ার মতনই হয়ে যায়।

জ্যাক মা’র জীবনে একটি বড়সড় শিক্ষা হলো তিনি ব্যবসার ক্ষেত্রে সমস্ত প্রতিযোগীদেরকে কখনোই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভাবেননি।

বরং তিনি নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা শুরু করেন।

তিনি নিজেই ঠিক করে নেন আজকের যে তিনটি তিনি কাটাচ্ছে কালকের দিনটি হবে আরো একটু ভালো।

মাথায় রাখবেন যখন আপনি নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হবে তখন আশেপাশের কোন কিছুই আপনাকে আপনার লক্ষ্য থেকে দূরে সরাতে পারবে না।

এই ছিল জ্যাক মা’র জীবন থেকে অর্জন করা কিছু শিক্ষা।

এই সমস্ত শিক্ষাগুলি যদি আপনি আপনার জীবনে কাজে লাগাতে পারেন তাহলে দেখবে আপনি আপনার জীবনে সফলতা অর্জন করবেন।

Image Source : Facebook

আরো পড়ুন : অধিনায়কত্ব ছাড়ার জের নাকি? বিরাটকে রেখে মেয়েকে নিয়ে সটান মুম্বই ফিরলেন অনুষ্কা!!

RELATED ARTICLES

দৈনিক রাশিফল : ২৯শে নভেম্বর, ২০২১

আজকের দিনটি কেমন যাবে তা জানতে অবশ্যই পড়ুন দৈনিক রাশিফল। এর ফলে আপনি সামনের...

দৈনিক রাশিফল : ২৭শে নভেম্বর, ২০২১

আজকের দিনটি কেমন যাবে তা জানতে অবশ্যই পড়ুন দৈনিক রাশিফল। এর ফলে আপনি সামনের...

দৈনিক রাশিফল : ২৪শে নভেম্বর, ২০২১

আজকের দিনটি কেমন যাবে তা জানতে অবশ্যই পড়ুন দৈনিক রাশিফল। এর ফলে আপনি সামনের...

Must Read

কুমিরের সাথে সেলফি নিতে গিয়ে রক্তাক্ত এই হলেন ব্যক্তি!!!...

শেষমেষ কিনা কুমিরের সাথে সেলফি তুলতে গেলে নেই ব্যক্তি আর সেখান থেকেই রক্তাক্ত অবস্থায়...

এবার মাইকেল জ্যাকসনের রূপে ধরা দিলেন মিমি চক্রবর্তী!! ভাইরাল...

মাইকেল জ্যাকসনের রূপে ধরা দিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। টলিউডের বিখ্যাত সমস্ত অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম...

দৈনিক রাশিফল : ২৯শে নভেম্বর, ২০২১

আজকের দিনটি কেমন যাবে তা জানতে অবশ্যই পড়ুন দৈনিক রাশিফল। এর ফলে আপনি সামনের...